শিরোনাম
জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ডাক সিপিবি'র ইউরিয়া সারের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কৃষক সমিতির বিক্ষোভ ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গাইবান্ধায় সিপিবির বিক্ষোভ লামার দগ্ধ পাহাড়ে স্বপ্নের স্কুল লোড শেডিং এর প্রতিবাদে হারিকেনের আলোয় রাজপথে লেখাপড়া জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপতিক প্রতিনিধিত্ব, ‘না’ ভোট, জনপ্রতিনিধি প্রত্যাহারের বিধানের দাবি সিপিবি'র কঙ্গোতে জাতিসংঘবিরোধী বিক্ষোভে ৩ শান্তিরক্ষীসহ নিহত ১৫ ফিলিপিন্সে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশী নারী শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ছুরিকাঘাতে নিহত

রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

শাহাদাৎ খাঁ সভাপতি, আব্দুল কুদ্দুস সাধারণ সম্পাদক ও লিটন নন্দীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কমিটি পুনর্গঠন


রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা আজ পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি শাহাদাৎ খাঁ’র সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম।

সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি জননেতা কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সংগঠনের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ কাফি রতন, রাগিব আহসান মুন্না,জলি তালুকদার, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ, আমিনুল ফরিদ, অরুন কুমার শীল, বিমল কান্তি দাশ,আব্দুল জলিল,মোকছেদুর রহমান জুয়েল,আব্দুল হাকিম মাইজভাণ্ডারী,আলিমুর রেজা রানা, মৃদুল কান্তি রায়,দুলাল সর্দার,জামাল হোসেন,মোহাম্মদ আলী,আশরাফুল আলম,আব্দুল কুদ্দুস,প্রদীপ বর্মণ,রাসেল,লাভলু মিয়া,আব্দুস সালাম মোল্লা, মহির মোল্লা,শাহেদুল ইসলাম,মোহাম্মদ নিজাম,সেলিম মিয়া, প্রমুখ।

সভায় শোক প্রস্তাব, সাংগঠনিক রিপোর্ট, গঠনতন্ত্র সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। সাংগঠনিক রিপোর্ট উত্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক লিটন নন্দী।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে রিকশা শ্রমিকদের আন্দোলন সংগ্রামের সুবিশাল ইতিহাস রয়েছে। এদেশের সকল জাতীয় আন্দোলনে রিকশা শ্রমিকদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও ভূমিকা। ২০১২ সালে ব্যাটারীচালিত রিকশা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আবার নতুন করে সংগঠিত হয়ে এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারের গণবিরোধী নীতি ও সরকার দলীয় ব্যক্তি-সরকারি কর্মকর্তা অসাধু ব্যবসায়ীদের লুটপাটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ সংকটে। এই সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের শ্রমজীবী মানুষ। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার, দেশীয় উৎপাদনের পরিবর্তে আমদানি নির্ভর বাজার অর্থনীতি গড়ে তুলে সরকার এই সংকট তৈরি করেছে। ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিপদসীমার নিচে নেমে গেছে, অর্থের তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। টাকার মানের ক্রমাগত পতন হচ্ছে। সকল পণ্যের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণের জীবন যাপন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

শতভাগ বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ রপ্তানির সক্ষমতার ফাঁকিবাজি গল্প এক বছর পার না হতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। লোডশেডিং এখন নিত্য ঘটনা। লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈষম্য, যার শিকার গরিব-মেহনতি মানুষ। লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ জ্বালানিখাতের লুটপাট ও গণবিরোধী নীতি।

স্বৈরাচারী সরকার ডিজটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ নানা কালো আইনের মাধ্যমে জনগণের কণ্ঠরোধ করে যাচ্ছে। কেড়ে নেয়া হচ্ছে কথা বলার অধিকার, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশনের অধিকার। গণমাধ্যম, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ওপর দলীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।

দেশের জনগণের বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা আজ ভয়াবহ সংকটে। এ সংকট মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সর্বোপরি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজতন্ত্রের সংগ্রামকে শক্তিশালী করতে হবে।

কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভায় দাবি জানানো হয়, তিন চাকার যানবাহনের শ্রমিকদের উপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। ব্যাটারীচালিত যানবাহনের বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। সব সড়কে সার্ভিস লেন চালু ও সব রাস্তায় চলাচলের অধিকার দিতে হবে। শ্রমিকদের জন্য রেশন ও পেনশনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

সভায় জননেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শ্রমিক মেহনতি মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করতে হবে। মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সভায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে শাহাদৎ খাঁ সভাপতি, আবদুল কুদ্দুস সাধারণ সম্পাদক ও লিটন নন্দী সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সভায় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নাম সংশোধন করে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করার দৃপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত হয়।